রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তিনি গত সপ্তাহে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় আগে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তাঁর কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি।
ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, সর্বোচ্চ নেতার বার্তার জন্য তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলের জন্য আমার শুভকামনা পৌঁছে দেবেন। পুতিন আরও বলেন, আমরা দেখছি কীভাবে ইরানের জনগণ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করছে। যত দ্রুত সম্ভব এই অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করতে রাশিয়া ইরান এবং এই অঞ্চলের সকল মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সবকিছু করবে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে খামেনির এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। গত মাসে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যে হামলায় তাঁর বাবা ও ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হয়েছিলেন, একই হামলায় মোজতবা খামেনিও পায়ে ফ্যাকচার, বাম চোখে আঘাত এবং মুখে সামান্য ক্ষত নিয়ে বেঁচে ফেরেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, খামেনি যে এখনও বেঁচে আছেন সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর বেঁচে না থাকার কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই, তবে বেঁচে থাকা এবং ক্ষমতায় থাকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। নতুন এই সর্বোচ্চ নেতার ইরানে কতটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায়ও যুক্ত রয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/কেএলডি