ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও জনবহুল শহর তেল আবিবে ইরানের ছোড়া ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছ বোমার আঘাত হেনেছে। শনিবার সকালে তেল আবিব ও এর আশপাশের অন্তত সাতটি স্থানে এই বোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর মাটিতে পড়ে থাকা কোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ স্পর্শ না করতে নাগরিকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শুরুতে একে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মনে করা হলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো ইরানের ছোড়া ক্লাস্টার বোমা ছিল।
ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র গিলি এলহাদাদ জানান, তেল আবিব অঞ্চলের মোট সাতটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ক্লাস্টার মিউনিশনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলগুলোতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষ ইউনিট (বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) কাজ করছে।
অন্যদিকে, রিশন লেজিয়ন শহরের মেয়র রায কিনসটলিচ বলেন, "গত এক ঘণ্টায় চালানো হামলার সময় শহরের কয়েকটি স্থানে ক্লাস্টার মিউনিশন বিস্ফোরিত হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, মাটিতে পড়ে থাকা কোনো অংশ স্পর্শ করবেন না। এর ভেতরে অবিস্ফোরিত ছোট বোমা থাকতে পারে, যা যেকোনো সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।"
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছ বোমা হলো এমন একটি অস্ত্র যা আকাশ থেকে নিক্ষেপের পর মাঝপথে ফেটে গিয়ে ভেতরে থাকা শত শত ছোট ছোট বোমা বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে দেয়। ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন- অ্যারো বা ডেভিড’স স্লিং) বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, এই ছোট ছোট শত শত বোমা প্রতিহত করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।
এই হামলার প্রধান ঝুঁকি হলো ‘অবিস্ফোরিত সাব-মিউনিশন’। ক্লাস্টার বোমার অনেক অংশ তাৎক্ষণিক বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে ল্যান্ডমাইনের মতো কাজ করে। বেসামরিক মানুষের সামান্য স্পর্শে এগুলো বিস্ফোরিত হয়ে বড় ধরনের হতাহতের কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ইরানের খারেগ দ্বীপের তেল স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এসএফএল