আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

ইরানি হ্যাকারদের কবলে ২ হাজার মার্কিন নৌসেনার ব্যক্তিগত তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা দুই হাজারেরও বেশি মার্কিন নৌসেনার স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে ইরানপন্থি একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। হান্ডালা বা হানজালা নামের এই গোষ্ঠীটি কেবল তথ্য চুরিই করেনি, বরং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সেনাদের সরাসরি হুমকি দিচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।


ইরাকভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্যমতে, হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া নৌসেনার সংখ্যা অন্তত ২ হাজার ৩৭৯ জন। হ্যাকাররা তাদের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে সেনাদের নাম, বাসার ঠিকানা, পরিবারের বিস্তারিত তথ্য এবং এমনকি তাদের প্রতিদিনের চলাচলের রুটিনও প্রকাশ করেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে নিয়োজিত অনেক মার্কিন সেনা তাদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হুমকি সম্বলিত বার্তা পেয়েছেন। হ্যাকারদের দাবি, মার্কিন কমান্ডাররা যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কথা বলেন, তা কেবলই একটি বিভ্রম। তারা যেকোনো সময় এসব সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


সেনাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে পেন্টাগন। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন ঠিক কীভাবে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক করা হলো এবং অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে কিনা। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সেনাদের এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


সাইবার হামলার এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে নিয়ে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন।


ট্রাম্প দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপে পড়ে ইরান ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে এবং তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইরানকে দ্রুত বুদ্ধিমান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি হুশিয়ারি দেন যে, তেহরানের সময় ফুরিয়ে আসছে এবং ভালো মানুষির দিন শেষ।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা সাইবার যুদ্ধকে এক নতুন ও ভয়াবহ স্তরে নিয়ে গেছে। এটি প্রথাগত যুদ্ধের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, কারণ এর ফলে সম্মুখ সমরের বাইরেও সেনাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢালবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন