হরমুজ প্রণালির উভয় পাশই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান এই কৌশলগত জলসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর সমন্বয় বিষয়ক উপ-প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি।
শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ দেনা’র ক্রুদের শহীদ হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি জানান, ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ দেনা একটি শান্তি ও মৈত্রী মহড়া এবং শিক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছিল। জাহাজটিতে কোনো যুদ্ধাস্ত্র ছিল না। ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান অবশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেবে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ওই হামলায় ইরানের ১০৪ জন নৌসেনা প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জনের মরদেহ এখনো সমুদ্রে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ইরানের এই দেনা ধ্বংসকারী জাহাজটি আক্রান্ত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্য অংশে রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কর্তৃক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে চালকবিহীন এই ড্রোনগুলো প্রস্তুত করা সম্ভব। শত্রুদের বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযানেও ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত এবং এর উৎপাদন দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৌশলগত অবস্থানের বর্ণনা দিয়ে এই সিনিয়র কমান্ডার আরও জানান, হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশ এবং পারস্য উপসাগর আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশ এবং ভারত মহাসাগরের উত্তরভাগ ইরানের মূল নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র: মেহর নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল