ইরানের অনুমতি ও সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আগের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান আগে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
আইনি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গরিবাবাদি জানান, প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা এখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে অপর পক্ষ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা ও প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর। ওয়াশিংটন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলেই কেবল ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানের কোনো তাড়া নেই এবং তেহরান তার প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজকে পুরোনো বিষয় উল্লেখ করে গরিবাবাদি বলেন, ইরান এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। আমেরিকা যদি আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে চায়, তবে তাদের মনে রাখা উচিত যে ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেনি। বরং আমেরিকাই গত ১৬ মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো কূটনীতি ও আলোচনার টেবিলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ রয়েছে। কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় ও অনুমতি নিয়েই যেকোনো জাহাজ চলাচল করতে পারে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রণালীর প্রতিটি গতিবিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে গরিবাবাদি বলেন, উভয় দেশই ইসলামাবাদ সমঝোতার প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা যাচাই করছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ওমানের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলেও জলপথ খোলার বিষয়ে ইরান আগে কোনো ছাড় দেবে না। ওয়াশিংটন যেহেতু নিজ থেকে প্রতিশ্রুতি স্থগিত করে সরে গেছে, তাই আমেরিকাকেই আগে বাধ্যবাধকতায় ফিরতে হবে এবং এ জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট কী পদক্ষেপ নিতে হবে তাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সী