আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষমতায় আহমাদিনেজাদকে চেয়েছিল ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পর দেশটিতে শাসন পরিবর্তনের এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আর সেই পরিকল্পনায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির নতুন নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বে ভেতর থেকেই কেউ এলে ভালো হবে।’ মূলত তেহরানে আরও নমনীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেশটির পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু প্রশাসন আহমাদিনেজাদকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট বরাবরই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিরোধী এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কড়া সমর্থক ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করার জন্য পরিচিত এই নেতাকে কেন ওয়াশিংটন-তেল আবিব শীর্ষ ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল, তা এখনও এক বড় রহস্য।

 

অবশ্য শাসনভার ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদ ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারের প্রকাশ্য সমালোচকে পরিণত হন এবং খামেনির সঙ্গে তার তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হওয়ায় ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে। পরবর্তীতে তার চলাফেরা পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকার নিজ বাড়িতে সীমাবদ্ধ করে তাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বেশ জটিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ‘হিসাবি ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে তার প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পক্ষে যুক্তি দেন আহমাদিনেজাদ। এছাড়া তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি গত কয়েক বছরে তিনি গুয়াতেমালা এবং হাঙ্গেরির মতো ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ দেশগুলো সফর করেন। গত জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার মাত্র কয়েকদিন আগে হাঙ্গেরি থেকে বুদাপেস্ট সফর শেষে দেশে ফেরেন তিনি। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার তুলনামূলক নীরবতা ও জনসমক্ষে আড়ালে থাকার বিষয়টি সাধারণ ইরানিরা ভালোভাবে নেননি।

 

মার্কিন কর্মকর্তা ও আহমাদিনেজাদের এক সহযোগীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, শাসন পরিবর্তনের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাড়িতে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। মূলত তাকে পাহারা দেওয়া রক্ষীদের হত্যা করে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল, যাকে গত মার্চে ‘দ্য আটলান্টিক’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে ‘কার্যত একটি জেল ভাঙার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে এই হামলায় আহমাদিনেজাদ নিজেই আহত হন এবং এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার বর্তমান অবস্থানও অজানা। তার এক সহযোগী জানান, অদূর ভবিষ্যতে ইরানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভেনিজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগেজের মতো ভাবত, যিনি মাদুরো আটক হওয়ার পর ক্ষমতা গ্রহণ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।ৎ

 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা ছিল কয়েকটি ধাপে ইরানের সরকারকে ভেঙে দেওয়া। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা ও শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি করা এবং পাশাপাশি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। পরবর্তী ধাপে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুযোগে বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে বিমান হামলা ও খামেনি হত্যার বাইরে এই পরিকল্পনার বেশিরভাগ অংশই সফল হয়নি। 

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন