আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষমতা দখলে মোসাদের গোপন হাতিয়ার ছিলেন আহমাদিনেজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করে নতুন সরকার গঠনের এক চাঞ্চল্যকর ও উচ্চাভিলাষী ইসরায়েলি পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস হয়েছে। সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের সাবেক কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়োগ দিয়েছিল।

৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা, কূটনৈতিক এবং বিদেশি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই খবরে বলা হয়, আহমাদিনেজাদকে মূলত ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর মোসাদের সাথে এই সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হতে শুরু করে। ইসরায়েল মূলত আহমাদিনেজাদের এই বিশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছিল যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে ইরানের অর্থনীতি আর টিকতে পারবে না এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পদের পরিবর্তে একটি বোঝায় পরিণত হয়েছে।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মোসাদের একটি বিশেষ দল বিদেশে আহমাদিনেজাদকে নিয়ে তাদের মিশন অব্যাহত রাখে। তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বারনিয়া ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযানের তত্ত্বাবধান করেন এবং বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এক পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে একটি জরুরি নিরাপত্তা পরামর্শ সভাও এড়িয়ে যান।

 

২০২৬ সালের শুরুর দিকে আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হন। মোসাদের পরিকল্পনা ছিল, ‘অপারেশন পুস ইন বুটস’ নামের একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নতুন নেতৃত্বে বসানো এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা বন্ধ করা। এই বৃহত্তর পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ইরানের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের নানামুখী অভিযান, ইরাকে কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্রসজ্জিত ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, ইরানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা এবং মিলিশিয়াদের যাতায়াতের জন্য একটি নিরাপদ স্থল করিডোর তৈরি করা। এমনকি এই সমীকরণে আজারবাইজানকেও যুক্ত করার চেষ্টা ছিল ইসরায়েলের।

 

তবে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে এই পরিকল্পনা তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। সামরিক গোয়েন্দা প্রধান শ্লোমি বাইন্ডার, গবেষণা বিভাগের প্রধান ওফির মিজরাহি রোজেন এবং তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেগবি এর বিরোধিতা করেন। অভিযানের মাত্র তিন দিন আগে মতবিরোধ এমন চরমে পৌঁছায় যে, আইডিএফ চিফ অফ স্টাফ ইয়াল জামির সবকিছু থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত কুর্দি বাহিনী একটিও গুলি চালানোর আগেই পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়।

 

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ একসময় কট্টর রক্ষণশীল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি নিয়মিতভাবে হলোকস্টকে অস্বীকার করতেন এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পক্ষে কথা বলতেন। তবে ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁকে বারবার নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে তিনি ইরানের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন এবং আলী খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার কট্টর সমালোচকে পরিণত হন। তিনি শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন এবং নিজেকে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে একটি 'নরম ভাবমূর্তি' গঠন করেন।

 

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। কয়েক মাস আগে তাঁর বাসভবনে কথিত বিমান হামলার পর তিনি গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে গুঞ্জন ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও অনুসারে, গত সপ্তাহে তেহরানে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় জানাজায় তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গেছে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন