ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার ফলে যুদ্ধের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। এই হামলার জেরে তেলের দাম সম্পূর্ণ 'নিয়ন্ত্রণের বাইরে' চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান, এই হামলার অর্থ হলো যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া। আগে লক্ষ্য কেবল সামরিক বাহিনী বা শাসনব্যবস্থাকে হটিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন সম্ভাব্যভাবে দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই তেলের দাম বেড়ে গেছে। তাই ইরান যেন জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেয়, তা নিশ্চিত করতেই আমেরিকা খারগ দ্বীপটিকে 'জিম্মি' করে রেখেছে।
মার্ক কিমিট আরও বলেন, যদি সত্যিই তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে এটা স্পষ্ট যে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অবকাঠামোগুলোতেও আক্রমণ চালাবে। আর এমনটি ঘটলে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
উল্লেখ্য, ইরানের উপকূল থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপটি দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পরিচালনা করে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহ এই দ্বীপটিকে অক্ষত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে, এই আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ আগেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরের ইরানি দ্বীপপুঞ্জে যদি মার্কিন আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ইরান 'সব ধরনের সংযম ত্যাগ করবে'।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/টিবিএ