যুদ্ধ অবসানের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'সময় ফুরিয়ে আসছে।' নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানকে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্ধারিত ফোনালাপের আগেই এই বার্তাটি করেছেন। এর আগে ট্রাম্প ইরানের দেওয়া পাল্টা প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' বলে প্রত্যাখ্যান করেন। চলমান যুদ্ধবিরতিটি 'ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে' রয়েছে বলেও সতর্ক করেন। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক পূর্বেও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, চুক্তি না হলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই আপসহীন মনোভাবের কারণে আলোচনা এক চরম অচল অবস্থার দিকে মোড় নেবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অবশ্য তাদের প্রস্তাবগুলোকে 'দায়িত্বশীল' ও 'উদার' বলে দাবি করেছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তেহরানের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলাসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা। এছাড়া তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে পাঁচটি শর্ত রেখেছে বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি উল্লেখ করেছে। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইরান কেবল একটি পারমাণবিক কেন্দ্র চালু রাখতে পারবে এবং তাদের উৎপাদিত উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। এটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করার পূর্ববর্তী মার্কিন অবস্থান থেকে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আলোচনা সচল করতে এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ সত্ত্বেও মোটের ওপর বজায় রয়েছে। এই সংঘাতের জেরে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে এবং পথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবেই তারা এই পথ বন্ধ করেছে। এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তেহরানকে শর্ত মানতে বাধ্য করতে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে। বর্তমানে পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও, দুই পক্ষ এখনো সমঝোতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন