যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চালানো হামলায় এ পর্যন্ত ৫৭ জন আহত হওয়ার তথ্যও রবিবার সন্ধ্যায় দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আহতদের মধ্যেও বাংলাদেশি রয়েছেন। তবে এখনও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১ মার্চ) আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ এ এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে নিহত ও আহত হওয়ার খবর দেয়। এতে বলা হয়, ইরান থেকে আসা ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি ৩৫টি দেশের মধ্যে পড়ে ক্ষতি করেছে।
আল জাজিরায় বলা হয়, “এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৮ জন। তারা- আমিরাত, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক।”
আরব আমিরাত প্রতিনিধি সেখানকার সবশেষ অবস্থার খবর তুলে ধরে বলেন, দেশটিতে বসবাসরত ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় শনিবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বিকট আওয়াজে ইরানি ও মিসাইল প্রতিহতের শব্দে সবার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আবুধাবি নগরীর ঘনবসতি সম্পন্ন এলাকা, দূতাবাস এলাকাগুলোতে প্রবাসীদের উৎকণ্ঠিত চেহারা দেখা যায়। সবাই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে খবরাখবর বিনিময়েও ব্যস্ত ছিলেন। আমিরাত কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল।
রবিবার (১ মার্চ) আবুধাবিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুবাই ও উত্তর আমিরাতে প্রবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ থাকার খবর মিলেছে। আমিরাতের জাতীয় জরুরি অবস্থা, সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও বার্তা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নাগরিকদের অবহিত করছে।
ইরানের পাল্টা হামলার দ্বিতীয় দিনে রোববার আমিরাতের বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করেছে, আটটি মিসাইল সমুদ্রে ভূপাতিত করেছে, দুটি ক্রুজ মিসাইল নিষ্ক্রিয় করেছে এবং ৩১১টি ড্রোন বাধা দিয়ে ভূপাতিত করেছে এবং ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি দেশটির বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সাফল্যের সঙ্গে ভূপাতিত করেছে। এসব ঘটনায় উপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে সামান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিএনএনকে মন্ত্রী বলেন, বাসিন্দারা যেসব বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছেন তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিযানের ফল। এদিকে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের নিয়োগকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছে তারা যেন কর্মীদের খোলা জায়গায় বা উন্মুক্ত স্থানে উপস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি কাজ যেগুলোর জন্য শারীরিক উপস্থিতি প্রয়োজন, সেগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।
এছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে রিমোট ওয়ার্ক (বাসা থেকে কাজ) বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নির্দেশনা মঙ্গলবার পর্যন্ত কার্যকর হবে। এদিকে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সহায়তার জন্য দূতাবাস ও কনস্যুলেটর উদ্যোগে হটলাইন খুলেছে, যেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
ডিবিসি/কেএলডি