ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রকৃত আর্থিক ব্যয় পেন্টাগন গোপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ব্যয়ের বোঝা চেপেছে, তা ওয়াশিংটনের স্বীকার করা সরকারি হিসাবের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
শুক্রবার (১ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের খরচ নিয়ে মার্কিন দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জুয়া’র কারণে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার খরচ হয়েছে-যা বর্তমানে ঘোষিত সরকারি অংকের চেয়ে চার গুণ বেশি।
আরাগচি তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, পেন্টাগন মিথ্যা বলছে। নেতানিয়াহুর জুয়ায় এ পর্যন্ত আমেরিকার সরাসরি ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা দাবিকৃত অংকের চেয়ে চার গুণ।
মার্কিন নাগরিকদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন করদাতাদের জন্য এই যুদ্ধের পরোক্ষ ব্যয় আরও অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের ওপর মাসিক খরচের বোঝা দাঁড়িয়েছে ৫০০ ডলার এবং এই অঙ্ক দ্রুত বাড়ছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি একটি তির্যক মন্তব্য করে বলেন, ইসরায়েল ফার্স্ট’ (ইসরায়েল আগে) নীতির অর্থ সবসময়ই হলো আমেরিকা লাস্ট (আমেরিকা সবশেষে)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিককে গুপ্তহত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের উস্কানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এর পাল্টা জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুত জয়ের আশা করলেও ইরানের শক্ত প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত তাদের সেই হিসাব বদলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে এবং একই সাথে ইরানি জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল