আন্তর্জাতিক, আমেরিকা, এশিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না অনেক মার্কিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে চাইছেন না অনেক মার্কিন সেনা। বিশেষ করে ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মার্কিন বাহিনীর ভেতরেই এ যুদ্ধ নিয়ে চরম বিরোধিতা শুরু হয়েছে।

যুদ্ধে অংশ নিতে বা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অন কনশিয়েনস অ্যান্ড ওয়ার’। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রাইজনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, তাদের ফোন ক্রমাগত বেজে চলেছে। ইরানে যুদ্ধ করার বিষয়ে মার্কিন সেনাদের ভেতর থেকে তীব্র আপত্তি উঠেছে। তিনি তার পোস্টে লেখেন, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে যা বলা হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি সেনা ইউনিটকে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।

 

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা বিবেকের তাড়নায় বিদেশে যুদ্ধে যেতে আপত্তি জানান; তাদের ‘কনশিয়েনশাস অবজেক্টরস’ বলা হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা এক সেনাসদস্য সম্প্রতি তাদের ফোন করে ‘কনশিয়েনশাস অবজেক্টর’ হিসেবে আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ওই সেনা জানিয়েছেন, তার ইউনিটের ভেতর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে এবং তিনি তার সহকর্মীদেরও সংস্থাটির ফোন নম্বর দিচ্ছেন। জানা গেছে, মূলত আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা এবং বিশেষত মেয়েদের একটি স্কুলে মার্কিন হামলার ঘটনায় সেনারা চরম আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

উল্লেখ্য, ইরানের মিনাব শহরে বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল ওই স্কুলের ছাত্রী। সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলটিতে পরপর দুবার হামলা (ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাইক) চালানো হয়। প্রথম হামলার পর আতঙ্কে এক জায়গায় আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থী ও উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলাটি হয়। মিডলইস্ট আই, নিউইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্সসহ একাধিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম পরে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমা বর্ষণের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। এ ছাড়া, ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতেও যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রকে স্কুলের পাশের একটি নৌঘাঁটিতে আঘাত হানতে দেখা গেছে।

 

চরম উত্তেজনার মধ্যেই মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছে এবং সেখানে বৃহত্তর সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়েও জোর গুঞ্জন রয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়াও বাতিল করেছে। এই এয়ারবোর্ন সেনারা মূলত স্থলযুদ্ধে বিশেষজ্ঞ এবং আকাশপথে দ্রুত শত্রু সীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম।

 

অন্যদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (ড্রাফট) চালু করার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে পাঠিয়েছিল।

 

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন