যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনায় ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে কি না তা নিশ্চিত নয়। আলোচনা ও কূটনৈতিক পন্থায় সমাধানকে 'বুদ্ধিমানের পথ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বা 'লকড অ্যান্ড লোডেড' রয়েছে।
ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারসহ প্রশাসনের সব শীর্ষ কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক দুশ্চিন্তা থাকলেও ট্রাম্প জানান, কোনো তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জবাবে গত সপ্তাহ থেকে ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা চুক্তি হলেও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূএ: আনাদোলু এজেন্সি