ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা বা চুক্তি হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনার সুরের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে সামরিক শক্তির আস্ফালনও শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী জাহাজ রয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, আশা করছি আমরা একটি চুক্তি করতে পারব। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সতর্কবার্তার জবাবে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ।
খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন , আমেরিকা যদি আগ্রাসন চালায় তবে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা চুক্তি করতে পারি কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে সংঘাতের সম্ভাবনা। যদি চুক্তি না হয়, তবেই বোঝা যাবে তাঁর (খামেনি) কথা কতটা সঠিক।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করলে তা কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যুদ্ধ শুরু করলে এবার তা আঞ্চলিক স্তরে পৌঁছাবে। তিনি ইরানি জনগণকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা কখনো যুদ্ধ শুরু করি না এবং অন্য কোনো দেশে হামলা চালাতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে, ইরানি জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাম্প জানিয়েছিলেন একটি বিশাল আর্মাডা বা নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের মাধ্যমে একটি "ন্যায্য ও সমান" চুক্তিতে পৌঁছাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত জুনে ইরানে চালানো 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পরবর্তী আক্রমণ হবে আরও ভয়াবহ। এমন পরিস্থিতি যাতে আর না ঘটে, সেদিকেই নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যসূত্র তাস
ডিবিসি/এমইউএ