যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন থেকে গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী- দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে-ইরানের ওপর হামলা যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন বাহিনীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসতে পারে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এমন এক সময়ে এই হামলা হলো যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েল এবং বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সম্পদ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে, ইরানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ পুনরায় পূরণ করার বিশাল খরচ।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মঙ্গলবার এক 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে তিনি লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি এবং উচ্চ-মাঝারি গ্রেডের যুদ্ধাস্ত্রের মজুত আগে কখনো এত বেশি বা উন্নত ছিল না। আমাকে আজ জানানো হয়েছে যে আমাদের কাছে এই অস্ত্রগুলোর কার্যত সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। এই সরবরাহ ব্যবহার করে যুদ্ধ 'চিরকাল' এবং অত্যন্ত সফলভাবে চালানো সম্ভব।"
যদিও ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন যে ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে 'চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ' ধরা হয়েছিল, তবে তা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো সেই সময়ের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান অভিযানে আকাশ, সমুদ্র ও ভূমিভিত্তিক ২০টিরও বেশি অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধবিমান: বি-১ বোমারু বিমান, বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ লাইটনিং ২, এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-১৫ এবং ইএ-১৮জি গ্রাউলার। ড্রোন ও স্ট্রাইক সিস্টেম: লুকাস (LUCAS) ওয়ান-ওয়ে ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, হিমার্স (HIMARS) এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম, থাড (THAAD) ব্যাটারি এবং অ্যাওয়াকস (AWACS) নজরদারি বিমান। নৌবাহিনী: ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড নামে দুটি বিমানবাহী রণতরী এই অঞ্চলে অবস্থান করছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, পেন্টাগন কর্মকর্তারা এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের বিপদ সম্পর্কে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেইন ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের অভাব এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের ঘাটতি ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে আমেরিকার গোলাবারুদের মজুত, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আগেই চাপের মুখে রয়েছে। তবে জেনারেল কেইন এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন-গণমাধ্যমের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসএফএল