যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারাস’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কারখানায় ইরানের ড্রোন প্রতিরোধের লক্ষ্যে কম খরচে বিশেষ প্রতিরক্ষা ড্রোন তৈরি শুরু করেছে। থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি এসব যন্ত্রাংশ দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মাইল গতিতে উড়তে সক্ষম ‘গার্ডিয়ান’ নামের ড্রোনগুলো তৈরি করা হচ্ছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র পাঁচ হাজার ডলার।
ইউক্রেন যুদ্ধের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি লেগোর মতো সহজে জোড় লাগানোর উপযোগী এই ড্রোনগুলোর প্রধান কাজ হলো আকাশেই ইরানের শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করা।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে বেসামরিক অবকাঠামোতে বারবার হামলার ঘটনা ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রের মজুতও কমে আসে। এই জরুরি চাহিদা মেটাতে প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ও ধীরগতির প্রতিরক্ষা ব্যবসার ধরন বদল করে স্থানীয় নির্মাতাদের কাজে লাগাচ্ছে পাওয়ারাস। বর্তমানে আমিরাতের কারখানায় ফিলিপাইন ও চীন থেকে আসা কর্মীরা প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ড্রোন বানালেও তা ১০০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে কারখানার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ প্রতি মাসে ১৫ হাজার ড্রোন উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো রক্ষায় দুই কোটি ২০ লাখ ডলারের চুক্তি করার পাশাপাশি ভারতের মুম্বাইয়ের কাছেও একই ধরনের উৎপাদন শুরু করেছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের চাপের মুখে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের মতো বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন কম খরচে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ হাজার ডলারের গার্ডিয়ান ড্রোন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে না পারলেও শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় এবং সাশ্রয়ী উপায়ে প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
ডিবিসি/এফএইচআর