ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচির বিষয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে চান। এই রণতরী পাঠানো সেই কৌশলেরই অংশ।
‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা অপর মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর সাথে যোগ দেবে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সহযোগী গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একসাথে শক্তি প্রদর্শন করবে। উল্লেখ্য, ইউএসএস ফোর্ডকে গত অক্টোবরে ভেনিজুয়েলায় একটি অভিযানের প্রেক্ষাপটে ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল, সেখান থেকেই এখন এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
সম্প্রতি ওমান ও কাতারে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের বার্তা বিনিময় ও পরোক্ষ আলোচনা হলেও তা কোনো চূড়ান্ত ফলাফলের মুখ দেখেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তা ইরানের জন্য "খুবই মর্মান্তিক" হবে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা হতে পারে বা দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে দীর্ঘ আলোচনায় ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নেতানিয়াহু দাবি জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তিতে যেন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি সীমিত করা এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনকে সহায়তা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
বাইরে আন্তর্জাতিক চাপ এবং ভেতরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ—উভয় সংকটে জর্জরিত ইরান। গত মাসে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর কঠোর দমনপীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানিরা ৪০ দিনের শোক পালন শুরু করেছে। মাশহাদসহ বিভিন্ন স্থানে শোকাতুর জনতা সমবেত হয়ে ১৯৪০-এর দশকের দেশাত্মবোধক গান ‘হে ইরান’ গাওয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
ডিবিসি/এনএসএফ