টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো সর্বশেষ এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর ও বন্দর-এ-খামির এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে অভিযান শুরু হয় এবং এর লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-এ-খামির সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে টানা এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তারা বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটিতে অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত ও জর্ডানেও হামলার দাবি করেছে তারা। কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানের পাল্টা আক্রমণ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আরেক সামরিক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনবেন। তবে তিনি এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই; দেশের প্রতিরক্ষাই এখন তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসএফএল