নিজেকে ইরানের ‘১ নম্বর টার্গেট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, ইরান থেকে প্রতিনিয়ত গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে রয়েছেন তিনি। আর তাই তার ওপর কোনো হামলা হলে বা অঘটন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে উপদেষ্টাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন তিনি।
শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন, যদি তার কিছু হয় তবে ইরানের ওপর এমনভাবে বোমাবর্ষণ করতে হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি। এর আগেও তিনি বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি তাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরো ইরান ধ্বংস করে দেয়ার নির্দেশ দেবেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময়ও তিনি বলেছিলেন, তাকে হত্যা করা হলে ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, তাদের কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।
সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের কিল লিস্টের শীর্ষে অবস্থান করছেন। ইরানের নতুন কোনো ষড়যন্ত্র ইসরায়েল খুঁজে পেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইসরায়েল নতুন কিছু পায়নি। তিনি অনেক আগে থেকেই এই তালিকার ১ নম্বরে আছেন এবং এটাই জীবন। তিনি এও বলেন, আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।
মূলত ২০২০ সালে ড্রোন হামলায় ইরানের এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। গত কয়েক মাসে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই হত্যার হুমকি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এক অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানের এক সরকারি অপারেটিভ স্বীকার করেছিলেন যে তাকে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘ইরানভীতি’ ছড়ানোর জন্য ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ডিবিসি/এফএইচআর