ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটদের উদ্ধার অভিযান চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় ট্রাম্পের ‘অস্থিরতা’ এড়াতে তাকে ‘ওয়ার রুম’ বা যুদ্ধ কক্ষ থেকে দূরে রেখেছিলেন তার ব্যক্তিগত সহকারী ও উপদেষ্টারা। অভিযানের প্রতি মুহূর্তের খবরের বদলে তাকে কেবল বিশেষ বিশেষ মুহূর্তের তথ্য দিয়ে ব্রিফ করা হতো।
একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপদেষ্টাদের ধারণা ছিল প্রেসিডেন্টের ধৈর্যহীনতা অত্যন্ত সংবেদনশীল এই উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং দুই বৈমানিক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টা ধরে উপদেষ্টাদের ওপর চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বারবার বলতে থাকেন, ‘ইউরোপীয়রা আমাদের কোনো সাহায্য করছে না।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ পাইলটদের এই ঘটনাকে সত্তর দশকের ‘ইরান জিম্মি সংকটের’ সঙ্গে তুলনা করেন ট্রাম্প। তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উপদেষ্টাদের সতর্ক করে বলেন, ‘জিমি কার্টারের সময় কী ঘটেছিল তা দেখুন। ওই একটি ঘটনাই তাদের নির্বাচনে হারের কারণ ছিল।’
তৎক্ষণাৎ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রাম্প নির্দেশ দিলেও কৌশলগত ও লজিস্টিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের মাটিতে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি অভিযান চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সামরিক উপদেষ্টারা। এই মিশন সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ট্রাম্প স্থল সেনা পাঠাতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। সেখানে মার্কিন সেনারা সহজেই শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। মূলত বৈমানিকদের নিখোঁজ হওয়া এবং এর রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত বিচলিত ছিলেন বলেই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এফএইচআর