ইরানের দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছিল, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে শোধনাগারটি পুরোপুরি সচল করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
ইসরায়েলের 'চ্যানেল ১২ নিউজ'-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হাইফা বে' তেল শোধনাগারটি চলতি বছরেই দুটি পৃথক ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গত মার্চ মাসের এক হামলায় শোধনাগারটির একটি জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। এর আগে ২০১৫ সালের জুনে মার্কিন সহায়তাপুষ্ট আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শোধনাগারটিতে আঘাত হানলে বাজান গ্রুপ-এর তিন কর্মী নিহত হন।
এতদিন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও শোধনাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাজান গ্রুপ দাবি করে আসছিল যে হামলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। এমনকি মার্চ মাসে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জকে বাজান গ্রুপ জানিয়েছিল, ক্ষতি অত্যন্ত সামান্য এবং এর পরিমাণ আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার। ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেনও দাবি করেছিলেন, জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েশিভা ওয়ার্ল্ড দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে-গ্যাস টারবাইন, স্টিম বয়লার, বৈদ্যুতিক কক্ষসহ শোধনাগারের মূল ও সহযোগী ব্যবস্থাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সেখানে বড় ধরনের পুনর্গঠন কাজের অনুমোদন দিয়েছে, যা সম্পন্ন হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে ইসরায়েল কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ আরোপ করে রেখেছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হাজার হাজার সংবাদ প্রতিবেদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা আংশিক সেন্সর করেছে। তবে সেন্সরশিপের বেড়াজাল ভেঙে এখন প্রকৃত সত্য সামনে আসছে। ইতিমধ্যে ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে ইসরায়েলি নাগরিকরা ১১,০০০-এরও বেশি ক্ষতিপূরণের দাবি দাখিল করেছেন।
ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচালিত এই হাইফা শোধনাগারটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহের সবচেয়ে প্রধান উৎস। এটি দৈনিক প্রায় ২৬,০০০ টন তেল উৎপাদন এবং বছরে প্রায় ৯.৮ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। এই শোধনাগার ছাড়াও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেল আবিবের কিরিয়া, ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট, নেভাতিম বিমান ঘাঁটি, রামাৎ ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফা বন্দর এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ২০টি ঘাঁটিও ইরানি প্রতিরোধ হামলার শিকার হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল