আন্তর্জাতিক, আমেরিকা, এশিয়া

ইরানের হামলায় ৪ দিনে ২০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে গত চার দিনে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে জানা গেছে। আনাদোলু এজেন্সির সংকলিত তথ্য ও ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের ভিত্তিতে এ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।

এ আর্থিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি মার্কিন AN/FPS-132 আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, যেটা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাতার সরকারও এই ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে মোতায়েন করা ৫০ কোটি ডলার মূল্যের থাড (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের AN/TPY-2 রাডারটিও ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান, যার প্রমাণ স্যাটেলাইট চিত্রেও মিলেছে। 

 

এর বাইরে, বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় প্রায় ২ কোটি ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং বেশ কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়েছে। তবে সব ক্ষতি সরাসরি ইরানের হামলায় হয়নি; রবিবার কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুলে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়, যার প্রতিস্থাপনের আনুমানিক মূল্য ২৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেছেন।

 

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প বুহরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে এবং আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির একাধিক স্থানে ছাদ ধসে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্যাম্প বুহরিং-এর ভেতরে একটি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও বিস্ফোরণের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। 

 

অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের যাচাইকৃত ফুটেজ অনুযায়ী, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরান দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ঘাঁটির অন্তত চারটি কাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পাশাপাশি, দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত বিনোদনমূলক অঞ্চল থেকে ধোঁয়া ওড়ার দৃশ্যও স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে।

 

সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও এই নজিরবিহীন হামলার শিকার হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলায় সামান্য বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে; তবে ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ভবনের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে। 

 

এদিকে, কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে স্থানীয় কর্মকর্তারা 'নৃশংস' বলে আখ্যায়িত করেছেন। কম্পাউন্ডের কাছে ধোঁয়া দেখার পর অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে দূতাবাসটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

 

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেলারি ভবনের পাশের একটি পার্কিং লটে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন আঘাত হানলে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কিছুটা আঘাত লাগলেও বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।

 

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন