আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে বিমানে উঠে পালানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য হুমকির কারণে গোপনে বিমান পরিবর্তন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর নির্দেশেই তিনি অন্য একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

গত ৮ জুলাই ক্যামেরার সামনে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠলেও পরে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে লুকিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে ওঠেন ট্রাম্প। শেষ মুহূর্তে এমন পরিবর্তনের কারণে মূল বিমানে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন সেটিই বরং বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে বিমানটিতে মিসাইল হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছিল। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন গোয়েন্দারা ন্যাটো সম্মেলনের কাছাকাছি কাঁধে বহনযোগ্য মিসাইলসহ এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মীর কাছেই অজানা ছিল।

 

এর আগে আঙ্কারায় সম্মেলন চলাকালীন ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি ইরানের "এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু"। মঙ্গলবার ওহাইওতে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক হুমকি আসে, যার বেশির ভাগই অজানা।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর একদিন পরই এই গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনাটি ঘটেছিল। কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে তুরস্কে পৌঁছালেও, ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি একটি ছোট সি-৩২এ (C-32A) সামরিক বিমানে গোপনে উঠেছিলেন, যা সাধারণত ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করে থাকেন। ফ্লাইটটিকে স্বাভাবিক দেখাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আলাদা বাইরের সিঁড়ি ব্যবহার করে ওই একই বিমানে ওঠেন।

 

প্রতারণার এই কৌশল বজায় রাখতে সাংবাদিকদের বহনকারী মূল বিমানটি 'এএফ১' (AF1) কল সাইন ব্যবহার করে যাত্রা অব্যাহত রেখেছিল। ওই বিমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতো ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে গিয়ে আবার পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন