প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস পালন করে। ১৬২২ সালে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়নের ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করতেই এই দিবসটি উদযাপিত হয়।
তবে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলমান কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে এই দিবসটি ইরানিদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই উদযাপনটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও সার্বভৌমত্ব প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বছর তেহরানের বিখ্যাত তাবিয়াত সেতুতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিশালাকার ‘ক্রীড়া সম্মেলন’-এর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করা হয়েছে। জনসমাবেশের এই বিশাল উপস্থিতি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের সাহসিকতা ও একতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আয়োজনকে ঘিরে দেশজুড়ে এক ধরনের উৎসবমুখর ও দেশপ্রেমিক আমেজ বিরাজ করছে, যা কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
উৎসব চলাকালে ইরানের ক্রীড়া উন্নয়ন উপমন্ত্রী মেহর সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বর্তমান কঠিন সময়ে জাতীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং সম্প্রদায়ের মনোবল শক্তিশালী করার জন্য জনগণের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। মূলত আন্তর্জাতিক চাপ ও অবরোধের মুখে দেশের মানুষের মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতেই সরকার এমন বড় আকারের জনসমাগম ও উৎসবের ওপর জোর দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ১৬২২ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়কে সামনে রেখে ইরান বর্তমানেও তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার শপথ নিচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/পিআরএএন