দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট নিউজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে। আর এটি একক যুদ্ধে এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক টমাহক হামলার একটি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, এই মিসাইলগুলো মূলত যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনী এই জাতীয় স্বল্প গতির ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে।
টমাহক ক্রুজ মিসাইল প্রথম ১৯৮৩ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে পারস্য উপসাগর থেকে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথমবার ব্যাপক আকারে ব্যবহার করা হয়।
সাবসনিক গতির এই মিসাইলের ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার এবং এটি জিপিএস ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
শত্রু পক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিতে টমাহক ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র পৃষ্ঠ বা মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়, ফলে এটিকে ফ্লাইট পাথে শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়। এটি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন উভয় প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
এটি প্রায় ১,০০০ পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং কনভেনশনাল ওয়ারহেডের পাশাপাশি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনের উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে, যদিও মার্কিন নেভি বর্তমানে এটিকে শুধু কনভেনশনাল ওয়ারহেড দ্বারাই ব্যবহার করে।
টমাহক ক্রুজ মিসাইল অনেকটা চালকরবিহীন ছোট জেট বিমানের মতো কাজ করে। এটি অনেকটাই পুরোনো প্রযুক্তি এবং স্বল্প গতির হলেও, বাস্তবে এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডিবিসি/এসএফএল