বেসামরিক ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই একটি বিশেষায়িত ড্রোন সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কেন্দ্রটি সরকারি ও সামরিক উভয় সংস্থাকে বেসামরিক ড্রোন সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা প্রদানের মূল হাব হিসেবে কাজ করবে।
ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বেসামরিক ড্রোন আইন ও এর নির্বাহী উপবিধির বিশদ বিবরণ তুলে ধরে এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে ড্রোনের সামরিক ও বেসামরিক-উভয় ধরনের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালাই-নিক বলেন, শত্রুপক্ষ তাদের সবচেয়ে উন্নত ড্রোন ব্যবহার করে দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছিল। তবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে ইরান শত্রুপক্ষের সবচেয়ে আধুনিক ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই সংখ্যা ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ভূপাতিত ড্রোনের চেয়েও ১৬ গুণেরও বেশি।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, ড্রোনের ব্যাপক বেসামরিক ব্যবহারের কারণে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো আইনি কাঠামো ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করে, যাতে এগুলো জননিরাপত্তার জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায় কিংবা কোনো ধরনের জানমালের ক্ষতি না করে।
ইরানে এতদিন বেসামরিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি আইনি শূন্যতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্ট, সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের যৌথ প্রচেষ্টায় এই আইনি শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের কাছে এই খাতটি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক আইন রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কিছু পর্যায়ে বেসামরিক ড্রোন দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন আইনে এই বিষয়গুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করায় একটি প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ডিজিটাল ম্যাপিং, ভূমি ও সম্পত্তি নিবন্ধন, ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ, হাইড্রোগ্রাফি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, চিত্রগ্রহণ এবং বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানের মতো ক্ষেত্রে বেসামরিক ড্রোনের দ্রুত সম্প্রসারিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তালাই-নিক। তিনি জানান, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের আগেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি'র কাছে ড্রোনের প্রথম বহর হস্তান্তর করেছে। এছাড়া পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, খনি ও কৃষিকাজে (যেমন ফসলের ক্ষেত ও বাগানে কীটনাশক ছিটানো) ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে।
ড্রোন রপ্তানির বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্সি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কাস্টমসের সহায়তায় সরকার দেশীয় ড্রোন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সাহায্য করবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে ইরানের জ্ঞান-ভিত্তিক কোম্পানিগুলো বেসামরিক ড্রোনের প্রধান রপ্তানিকারক হয়ে উঠতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা, কর এবং সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল