রবিবার (১২ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার পর ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক উত্তেজনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
এর আগে অনুমোদিত নয় এমন রুটে চলাচলকারী একটি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানায়। এ ঘটনার কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তারা। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হামলার শিকার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ নামের কন্টেইনার জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর একজন বেসামরিক ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার ইস্টার্ন টাইম সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে মার্কিন হামলা শুরু হয়। এর ঠিক এক ঘণ্টা আগে ইরান বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, কন্টেইনার জাহাজের ঘটনার প্রতিশোধ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা আগামী নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি জাহাজ অননুমোদিত রুট দিয়ে প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল এবং দিক পরিবর্তনের সতর্কতা উপেক্ষা করেছিল। রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে। অপরদিকে ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে, তেহরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে তারা প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করবে এবং কোনো টোল ছাড়াই সব লেন উন্মুক্ত রাখবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি কাতারি ও সৌদি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করে এবং ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। যদিও ইরান জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে আলোচনায় সুবিধা পেতেই তেহরান এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চলছে। ওমানে অবস্থানরত আরাগচি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান প্রণালির বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে দক্ষিণ করিডোরে অবাধ চলাচল এবং উত্তর করিডোরে টোল ছাড়াই ইরানের পূর্বানুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুদ্ধের শুরুতে নিহত তার পিতা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সাবেক নেতার জানাজায় অংশ নেওয়া বিশাল জনতা ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার একটি ছক কষেছে ইরান—এমন গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনকে দিয়েছে ইসরায়েল, যদিও ইরান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এফএইচআর