দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের ১৩ মাসের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ ও সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেও, নিজের প্রশাসনের ভেতরেই এ নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে যুদ্ধের বদলে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ-'অর্থনীতি' ও 'জীবনযাত্রার ব্যয়' নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইরানকে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে এই সম্ভাব্য যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ বা লক্ষ্য এখনো মার্কিন জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। কখনো ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি, আবার কখনো পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের দাবিকে হামলার কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধংদেহী মনোভাব থাকলেও হামলার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ‘একীভূত সমর্থন’ নেই।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্টদের মতে, ইরানের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হতে পারে। কারণ, ট্রাম্পের মূল সমর্থক গোষ্ঠী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারী এবং তারা বিদেশে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরো সরকারকে উৎখাত করার অভিযানে সমর্থন থাকলেও, ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনমত জরিপ বলছে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিকের কাছে এখন প্রধান ইস্যু উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আবাসন খরচ। রিপাবলিকান প্রচার কর্মকর্তারা চান প্রেসিডেন্ট এই বিষয়গুলোতে আলোকপাত করুন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক শক্তির ব্যবহারই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন, ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই অংশ, যা পরোক্ষভাবে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে রক্ষা করছে।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেভাবে জনমত গঠন করেছিলেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তেমন কোনো স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ ভোটাররা এখন দেখছেন ট্রাম্প কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেন। যদি ইরান কোনো বড় ছাড় না দেয়, তবে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা-হয় পিছু হটে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল হিসেবে পরিচিত হওয়া, না হয় এক ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল