আন্তর্জাতিক, এশিয়া

ইরানে পৃথক দুটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের দুটি পৃথক শহরে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস শহরের মোআল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত একটি আটতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহের জানিয়েছে, এই ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

 

বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ভবনের দুটি তলা ধসে পড়ে এবং আশপাশের একাধিক যানবাহন ও দোকান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত প্রাথমিক তদন্তের পর জানান যে, গ্যাস লিক হয়ে ভবনের ভেতরে গ্যাস জমে থাকার কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা মেহরদাদ হাসানজাদেহ।

 

একই সময়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কিয়ানশাহর এলাকায় আরেকটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক সীমান্তবর্তী এই শহরের বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন। তবে এই ধ্বংসলীলার মাঝেও অলৌকিকভাবে এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

 

বন্দর আব্বাসের ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম এই গুজব নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, এই বিস্ফোরণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কোনো কমান্ডার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না এবং এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা।

 

এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন পারমাণবিক কর্মসূচি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে, যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

 

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সংঘাতই ইরান বা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্বার্থে নেই এবং ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না। 

 

এ স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে ইরান প্রস্তুত থাকলেও, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কখনোই আলোচনার টেবিলের কোনো অংশ হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন