মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কোথাও সৈন্য পাঠাচ্ছেন না এবং পাঠালেও তা সংবাদমাধ্যমকে জানাতেন না।
হোয়াইট হাউজ যখন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অবশিষ্টাংশ নির্মূল করার কৌশল নিয়ে গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছে তখনই ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন। গত গ্রীষ্মের সামরিক অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক উপাদানগুলো জব্দ করার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে, যদিও ট্রাম্প এর আগেই দাবি করেছিলেন ওই অভিযানে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের জব্দকরণ অভিযান সফল করতে হলে ইরানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। যুদ্ধের জবাবে ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রেসিডেন্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্ন সুর বজায় রাখছেন। অথচ চলতি মাসের শুরুতেই ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাকে একদম উড়িয়ে দিতে রাজি হননি।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পর নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনে তার কোনো দ্বিধা নেই। তখন তিনি অন্য প্রেসিডেন্টদের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি আগেভাগে কোনো কিছু নাকচ করে দেওয়ায় বিশ্বাসী নন।
এদিকে পেন্টাগনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ রহস্য বজায় রাখছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করলেও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের সীমা ঠিক কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা বোকামি হবে। ২ মার্চের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে বা নেবে না, তা নিয়ে আগাম কোনো আলোচনা হবে না।
উল্লেখ্য, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, আহতদের অধিকাংশের আঘাতই গুরুতর নয়।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী সংকেত পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট কখনো দাবি করেছেন যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে এবং ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো তিনি একে ‘অসমাপ্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ট্রাম্প আবারও যুদ্ধের সমাপ্তি আসন্ন বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে এবং ইরানের সামরিক অবকাঠামো তারা প্রায় ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছেন। নিজের গৃহীত এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, এটি এমন একটি সামরিক অভিযান ছিল যা করার সাহস অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না, কিন্তু তিনি দেশের স্বার্থে এই ‘ছোট্ট অভিযানে’ অংশ নিয়েছেন এবং দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
তথ্যসূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
ডিবিসি/এএমটি