মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকেই সর্বোত্তম সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সময় অতিবাহিত হয়েছে, যার ফলে অনেক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে পেন্টাগন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে এবং ইরানকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসবেন। একই সফরে তারা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সাথেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন নতুন চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চায়।
সামরিক শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে মোতায়েন হতে যাওয়া জেরাল্ড আর. ফোর্ড বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী, যা ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম। এর সাথে থাকছে শক্তিশালী এসকর্ট বহর, যার মধ্যে 'নরম্যান্ডি' ক্রুজার এবং 'কার্নি' ও 'রুজভেল্ট'-এর মতো অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার জাহাজ রয়েছে।
তবে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় সেনাদের মনোবল এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে এই রণতরীটি মূলত সাগরেই অবস্থান করছে। একদিকে হামলার হুমকি এবং অন্যদিকে জেনেভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি