আন্তর্জাতিক

ইরানে সংঘাতের প্রভাবে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার পর প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।

বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই সরু নৌপথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই পথ দিয়েই চলাচল করে। শনিবার সকালে ইরান আক্রান্ত হওয়ার পর তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের হুমকি কার্যকর করে এই নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের পক্ষ থেকে ভিএইচএফ চ্যানেলে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

 

এই ঘোষণার পরপরই অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউসগুলো ওই পথ দিয়ে তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন স্থগিত করেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং এলএনজির ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ার দেশগুলোতে, যার মধ্যে চীনের মোট এলএনজি আমদানির ২৪ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে।

 

আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার জানান, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরবিসি ও বার্কলেজের বিশ্লেষকরাও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিশ্লেষকরা একে প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বলে মনে করছেন। রাইস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ হোর্হে লিওন সতর্ক করেছেন যে, বিকল্প পথ থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে প্রতিদিন বাজারে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন