মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছে আবুধাবি। সোমবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ এই অভিযোগ করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং দেশটি এ ধরনের কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমিরাত তাদের এই নিরপেক্ষ ও শান্তিকামী অবস্থানের কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করে আসছে।
একই দিনে তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টাকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের পর ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আমিরাত সরকারের মতে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তুরস্কের ওপর এটি দ্বিতীয়বার হামলার চেষ্টা, যা সরাসরি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ওপর ইরানের এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমিরাত মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহেও তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে বলে আঙ্কারা অভিযোগ তুলেছিল, যদিও তেহরান সেই সময় তা অস্বীকার করে। তবে সোমবারের এই সর্বশেষ হামলার অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডিবিসি/এফএইচআর