যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে 'ফলপ্রসূ আলোচনা' হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এরপরও দুই দেশ পরবর্তী আলোচনায় কোথায় এবং কীভাবে বসতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা বাড়ছে। এরই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা বা আলোচনায় আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
সিএনএন-এর দুটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সও অংশ নিতে পারেন। তবে বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো সম্ভাব্য এ বৈঠকের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে।
নানা কারণেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচকদের জন্য পাকিস্তান একটি আদর্শ স্থান হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, ইরানের সাথে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত, নিবিড় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানের বাইরে পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি শিয়া মুসলিম বসবাস করে। উপসাগরীয় অন্যান্য ইসলামিক দেশগুলোর মতো পাকিস্তানে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই। সম্প্রতি এ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হয়নি ইসলামাবাদ। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধের মধ্যেও ইরান পাকিস্তানকে তাদের কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে ইসলামাবাদ। এর পেছনে আংশিক ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের বিশাল বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) ও খনিজ সম্পদের মজুতের দাবি, যা ওয়াশিংটনের আগ্রহ অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ট্রাম্প তার সাথে একাধিকবার দেখা করেছেন এবং তাকে নিজের "প্রিয় ফিল্ড মার্শাল" হিসেবেও অভিহিত করেছেন। গত গ্রীষ্মে ওভাল অফিসে মুনিরের সাথে সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, অন্যদের তুলনায় পাকিস্তানিরা ইরানকে অনেক ভালোভাবে চেনে।
ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি এ উত্তেজনা হ্রাসের পেছনে পাকিস্তানের নিজস্ব শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ তাগিদও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার কারণে ২৩ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশটি যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংঘাতে মারাত্মকভাবে অর্থনৈতিক হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই নিজেদের স্বার্থেই এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে মরিয়া ইসলামাবাদ।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এএমটি