আন্তর্জাতিক, এশিয়া

ইরান অভিযানে নজিরবিহীন ক্ষতির সম্মুখীন মার্কিন বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে পরিচালিত একটি গোপন সামরিক অভিযানে চরম বিপর্যয় ও কৌশলগত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট। প্রেস টিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ফাঁদে পড়ে ইসফাহানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন এটিকে একজন ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের বীরত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে দাবি করলেও, এ দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছে প্রতিবেদনটি। মূলত ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার উগ্র হুমকি দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অভিযানের 'জিরো আওয়ার' বা চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন কমান্ডোদের বহনকারী সি-১৩০ পরিবহন বিমানগুলো পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী একটি পরিত্যক্ত মাটির রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করে। এর আগে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হলেও, প্রাথমিক অনুপ্রবেশের সময়ই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়।

 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে অন্তত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল ইরানের রাডার ব্যবস্থা তাদের শনাক্ত করতে পারবে না, কিন্তু ইরানি বাহিনী আগে থেকেই এ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত থাকায় পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় ছিল।

 

প্রথম সি-১৩০ বিমানটি কয়েক ডজন কমান্ডো নিয়ে অবতরণ করার পর ইরানি বাহিনী কৌশলগত কারণে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে বিশেষায়িত যান এবং লিটল বার্ড হেলিকপ্টারবাহী দ্বিতীয় সি-১৩০ বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করতেই তারা চারদিক থেকে প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে। এতে বিমানটি জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় এবং সেখানে অপেক্ষমাণ মার্কিন কমান্ডো ও হেলিকপ্টারগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফাঁদে পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে হোয়াইট হাউস থেকে তড়িঘড়ি করে অনুপ্রবেশের মিশন বাতিল করে এটিকে একটি মরিয়া উদ্ধার অভিযানে পরিণত করা হয়। ইরানি বাহিনীর তুমুল গোলাবর্ষণের মুখে আতঙ্কিত মার্কিন সেনারা তাদের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয়পত্র ফেলে ছোট উদ্ধারকারী বিমানে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

 

পরবর্তীতে নিজেদের ফেলে যাওয়া সি-১৩০ বিমান এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম যাতে কোনোভাবেই ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো নিজেরাই ওই এলাকায় ভারী বোমাবর্ষণ শুরু করে। এ অভিযানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের লিটল বার্ড হেলিকপ্টারগুলো ওড়ার সুযোগই পায়নি; সেগুলোর কিছু মাটিতেই ধ্বংস হয় এবং বাকিগুলো বিমানের ভেতরেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ নজিরবিহীন অপমানজনক পরাজয় লুকাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ একের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে এটিকে পাইলট উদ্ধারের সফল অভিযান হিসেবে প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

 

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন