আন্তর্জাতিক

ইরান চাইলেও পুরোপুরি খুলতে পারবে না হরমুজ প্রণালি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় নিজেদের পেতে রাখা মাইনগুলো খুঁজে না পাওয়ায় বর্তমানে হরমজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরান চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সমুদ্রের স্রোতে অনেক মাইন ভেসে যাওয়ায় এবং সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান তাদের ‘নেসেসিটি অপশন’ বা চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে এই জলপথটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২ মার্চ আইআরজিসি-র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানান, হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশ করলে তা ‘টার্গেট’ করা হতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব শিপিং বাজারে ধস নামে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

 

মাইন মোতায়েনের পাশাপাশি ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংকুচিত হয়ে আসে, যা বিশ্ব জ্বালানি প্রবাহে তেহরানকে এক শক্তিশালী সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। তবে এই কৌশলই এখন তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান অত্যন্ত এলোমেলো ও অসংগঠিতভাবে মাইনগুলো মোতায়েন করেছিল, যার ফলে এখন তাদের কাছেই এর সঠিক কোনো রেকর্ড নেই। মাঝেমধ্যে বিশেষ ফি-র বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু সংকীর্ণ লেন দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া বা নিরাপদ পথের ম্যাপ প্রকাশ করা হলেও সমুদ্রপথটি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য হরমজ প্রণালী ‘পূর্ণাঙ্গ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদ’ভাবে উন্মুক্ত করার শর্ত দিয়েছেন। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও পরোক্ষভাবে এই জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’ বিবেচনায় নিয়ে প্রণালীটি পুনরায় খোলা হবে। তবে হরমজ প্রণালীর মতো উত্তাল ও বিশাল জলপথে মাইন অপসারণ একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এমনকি অত্যাধুনিক মাইন-হান্টিং জাহাজ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির পক্ষেও যেখানে এটি দ্রুত করা কঠিন, সেখানে ইরানের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের নৌ-অবকাঠামো ও বেশ কিছু জাহাজ ধ্বংস হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও ইরানের কাছে এখনও শত শত ছোট স্পিডবোট রয়েছে যা নতুন মাইন স্থাপন বা অতর্কিত হামলার সক্ষমতা রাখে।

 

ফলস্বরূপ, এই মুহূর্তে ঠিক কতটি মাইন কোন অবস্থানে রয়েছে সে সম্পর্কে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র, কারও কাছেই স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তানে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে আবারও ভয়াবহ হামলার শিকার হতে হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে ট্রাম্প জানান, তারা ইতোমধ্যে বিশ্বের সেরা সব গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রে সজ্জিত জাহাজ মোতায়েন করছেন।

 


ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন