আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি বৈঠক: আলোচনার টেবিলে ১৫ ও ১০ দফার লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির শান্তি আলোচনা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।

এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।


শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদকে বর্তমানে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের বিস্তারিত এজেন্ডা এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে কৌশলগত কারণে শেষ মুহূর্তে নামগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।


এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে নিজেদের শর্তে অটল। আলোচনার টেবিলে দুই দেশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ১৫ দফার মধ্যে রয়েছে- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিল, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া।

 

অন্যদিকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- সকল আঞ্চলিক সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ।


তবে শান্তি আলোচনার মূল পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন পরিস্থিতি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন, লেবানন ইস্যু নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে যৌক্তিক ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। এই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াকে তিনি বোকামি বলেও আখ্যা দেন।


অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননে আমাদের ভাই-বোনদের ওপর হামলা চলতে থাকলে এই আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। আমাদের হাত এখনও ট্রিগারেই রয়েছে। ইরান কখনোই তার মিত্রদের ত্যাগ করবে না।


বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি এসিড টেস্ট। একদিকে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং অন্যদিকে তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক প্রভাব-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের জন্য সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

আজকের বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য কি স্থায়ী শান্তির পথে হাঁটবে, নাকি দুই সপ্তাহ পর আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হবে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন