ওয়াশিংটন ডিসি ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনমত হ্রাসের মুখে নিজের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে অপসারণের পর এই গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতেই ট্রাম্প এই শুদ্ধি অভিযানে নামতে পারেন।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরাসরি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের অনুমোদনের হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশে, যা তাঁর বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন। এছাড়া ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
সূত্রমতে, ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড এবং বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক।
বিদেশের মাটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের সমালোচক গ্যাবার্ডের ওপর ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরেই অসন্তুষ্ট। গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রাক্কালে উষ্ণায়নকামী রাজনৈতিক এলিটদের সমালোচনা করে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন তিনি, যা হোয়াইট হাউস ভালোভাবে নেয়নি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও প্রয়াত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের জেরে চাপের মুখে আছেন লুটনিক। সম্প্রতি প্রকাশিত ফাইলে ২০১২ সালে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে তাঁর মধ্যাহ্নভোজের তথ্য সামনে আসায় মিত্ররাই তাঁর অপসারণ দাবি করছেন।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে সরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণটি জনমনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছেন খোদ হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। ওই ভাষণে যুদ্ধের কোনো সমাপ্তি বা অফ-র্যাম্প নির্দেশ করতে ব্যর্থ হন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তেহরানকে দায়ী করলেও সাধারণ ভোটাররা জ্বালানির চড়া মূল্যে দিশেহারা।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভোটাররা আদর্শিক বার্তা সহ্য করতে পারে, কিন্তু পকেটে টান পড়লে তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। বুধবারের ভাষণ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পের তাঁর মন্ত্রিসভার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি তুলসী গ্যাবার্ড ও হাওয়ার্ড লুটনিকের কাজের প্রশংসা করে তাঁদের অপসারণের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রচার নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি যেকোনো সময় বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং যুদ্ধের দায় এড়াতে মন্ত্রিসভার এই রদবদল ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। তবে বারবার লোকবল পরিবর্তন হোয়াইট হাউসে অস্থিরতার চিত্র ফুটিয়ে তুলবে কি না, তা নিয়ে খোদ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল