আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে ফুরিয়ে আসছে উড়োজাহাজের জ্বালানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান যুদ্ধের কারণে বিমান ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার এয়ারলাইনসগুলো এখন ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। আমদানিকৃত জেট ফুয়েলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের দেশগুলোতে ব্যাপক হারে ফ্লাইট বাতিল এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরাসরি জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে নেই, তবে বৈশ্বিক এই সংকট মার্কিন ক্যারিয়ারগুলোর জ্বালানি খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা সস্তা বিমান ভাড়া কমিয়ে দিচ্ছে এবং তুলনামূলক কম লাভজনক ফ্লাইটগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটকদের পকেটে; বিশেষ করে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আজই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা হয় এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়, তবুও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের চিত্র বদলাবে না। কারণ এয়ারলাইনসগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই তাদের রুট এবং ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, 'ইউনাইটেড এয়ারলাইনস' আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।


জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর প্রধান মার্কিন বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, "পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা করাটাও হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদ হয়ে যাবে।"


শ্রমিকদের বেতনের পর জ্বালানি হলো এয়ারলাইনসগুলোর দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয়। একটি সাধারণ এক সারির বাণিজ্যিক বিমান প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ গ্যালন জ্বালানি পোড়ায়। বড় বিমানগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও অনেক বেশি।


গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চারটি এয়ারলাইনস- ইউনাইটেড, আমেরিকান, ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্ট- প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার জ্বালানি বাবদ খরচ করেছে। যুদ্ধের পর এই খরচ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ডেল্টা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের এ বছর জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অন্যদিকে ইউনাইটেডের প্রধান নির্বাহী স্কট কার্বি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তাদের অতিরিক্ত ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে।


ডয়চে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে শেষ মুহূর্তের বিমান ভাড়া এই মাসের শুরুর তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। হাওয়াই রুটেও ভাড়া বেড়েছে ২১ শতাংশ।


বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত জেট ফুয়েলের ২০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশই যায় ইউরোপে। কুয়েত এবং বাহরাইনের মতো প্রধান রপ্তানিকারকদের জ্বালানি এখন এই প্রণালীতে আটকা পড়ে আছে। এশিয়ার দেশগুলো, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল দিয়ে জেট ফুয়েল তৈরি করে, তারা এখন নিজেদের রপ্তানি সীমিত করতে শুরু করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।


জ্বালানির উচ্চমূল্য ধুঁকতে থাকা এয়ারলাইনসগুলোর জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা 'স্পিরিট এয়ারলাইনস' গত ১৮ মাসে দুইবার দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে। যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগেই তারা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম তাদের অস্তিত্বকে পুরোপুরি বিলীন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।


ফিচ রেটিং-এর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আর্থিকভাবে দুর্বল এয়ারলাইনসগুলো এই চাপ সইতে না পেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি সস্তা টিকিট সরবরাহকারী এই সংস্থাগুলো বাজার থেকে হারিয়ে যায়, তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিমান ভ্রমণ বিলাসিতায় পরিণত হবে।


ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের সিইও স্কট কার্বি ব্লুমবার্গকে স্পষ্টভাবেই বলেছেন, যেসব ফ্লাইটে লোকসান হবে এবং জ্বালানি খরচ উঠবে না, সেগুলো চালানোর কোনো মানেই হয় না।


সূত্র: সিএনএন


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন