ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৯ এপ্রিল) পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংঘাত শুরুর পর এটিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম দাপ্তরিক খরচের হিসাব।
পেন্টাগনের কম্পট্রোলার হিসেবে দায়িত্বরত জুলস হার্স্ট হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানান, এই বিপুল অর্থের বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ এবং সমরাস্ত্রের পেছনে। তবে এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের সম্ভাব্য খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ হার্স্টের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "আমি খুশি যে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংখ্যাটি জানার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই সংঘাতের সূত্রপাত। বর্তমানে দুই পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন করছে। পেন্টাগন এই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরীসহ হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম এবং সারের মতো কৃষি পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এটি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এই হিসাব সামনে এলো। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা এই অপ্রিয় ইরান যুদ্ধকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যুক্ত করে রিপাবলিকান প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মার্চ মাসে এই সমর্থনের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল