ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে দাবি করেছেন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাক রিড। মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন লঙ্ঘন করে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রবিবার (৩ মে) এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোড আইল্যান্ডের সিনেটর জ্যাক রিড মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। গত সপ্তাহে হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধের চলমান যুদ্ধবিরতি মূলত সেই ৬০ দিনের মেয়াদের একটি ‘বিরতি’ বা ‘পজ’, যে সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন।
হেগসেথের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়ে সিনেটর জ্যাক রিড বলেন, আইনের ভাষায় ফুটবল খেলার মতো এমন কোনো ‘টাইমআউট’ বা বিরতির বিধান নেই। প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন বিদেশে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। তবে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনে প্রশাসনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। জ্যাক রিড জানান, এই অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের কাছে অনুরোধ পাঠাতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো বিজ্ঞপ্তি না পাঠিয়েই আইনকে উপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুদ্ধবিরতি শুরুর সাথে সাথেই শত্রুতার অবসান ঘটেছে। ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন যে, যুদ্ধবিরতির ফলে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময়সীমাও স্থগিত হয়ে গেছে।
সিনেটর রিড সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক আক্রমণের উদাহরন টেনে বলেন, বুশের সেই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত থাকলেও তার প্রশাসন কংগ্রেসের মতামত নিয়েছিল। রিডের মতে, বুশ কংগ্রেসের কাছে আসায় যে আইনি বৈধতা পেয়েছিলেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সেই বৈধতার চরম অভাব রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/কেএলডি