ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অত্যাধুনিক চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার( ২৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেলেও, কোনো সক্রিয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের ঘটনা এবারই প্রথম।
পেন্টাগনের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোটগুলো একই সঙ্গে নজরদারি এবং 'কামিকাজি' বা আত্মঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানার পাশাপাশি এ স্পিডবোট নিজেকেও ধ্বংস করে দেয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনস্যান্স ক্র্যাফট' বা গার্ক এই স্পিডবোটগুলো তৈরি করেছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই বিধ্বংসী নৌযানটিকে কার্যকর যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে এলেও এবং সামুদ্রিক ড্রোন কাছাকাছি সময় থেকে ব্যবহৃত হলেও, ড্রোন স্পিডবোটের আগমন তুলনামূলকভাবে নতুন। ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো এ ধরনের ড্রোন স্পিডবোট ব্যবহার করেছিল।
পেন্টাগন মুখপাত্র হকিন্স রয়টার্সকে বলেন, গার্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র ভাণ্ডারে উদীয়মান সম্ভাবনা ও সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট বর্তমানে এটি ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনভিত্তিক এই পঞ্চম ফ্লিট পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি