ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাম্প্রতিক অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, মেলোনি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ইচ্ছুক নন এবং এই বিষয়টি তাকে হতবাক করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, মেলোনির সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মেলোনি ন্যাটো ইস্যুতে আমাদের পাশে নেই, এমনকি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণেও তিনি কোনো সাহায্য করতে চান না। আমি তাকে নিয়ে যেমনটা ভেবেছিলাম, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।” ট্রাম্পের মতে, মেলোনি ও ইতালির পূর্বের সেই অবস্থান আর বজায় নেই।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জ্বালানি নীতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প ইতালির অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ইতালীয় নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দেশের নেতা ইরানের তেল নেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, এতে কি আপনারা সন্তুষ্ট?’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, তিনি ইরানের তেল ক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে বারবার কথা বললেও মেলোনির নির্লিপ্ততা তাকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তিনি সাহসী, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তা মুহূর্তেই ইতালিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তার এই আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে ইতালির বিরোধী দলগুলো। দেশটির ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী এলি শ্লাইন এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পোপ লিওর প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় মেলোনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সংসদে আমরা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই ইতালির নাগরিক। আমাদের দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বাইরের কোনো হুমকি বা আক্রমণ আমরা সহ্য করব না।’
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/এফএইচআর