ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনের ২৫ শতাংশই হারিয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এই বিপুল সংখ্যক ড্রোনের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইতিপূর্বে একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এত উচ্চমূল্যের মার্কিন ড্রোনগুলোর লাগাতার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং অক্ষত রয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে একেকটি এমকিউ-৯ ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় ৩০ মিলিয়ন থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। এই মূল্য মূলত ড্রোনের অত্যাধুনিক নজরদারি ক্ষমতা এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। বিধ্বংসী ক্ষমতার দিক থেকেও এগুলো বেশ শক্তিশালী; প্রতিটি ড্রোন হেলফায়ার মিসাইল অথবা জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) গাইডেড বোমা বহনে সক্ষম। তবে শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও এই ড্রোনগুলোর একটি বড় দুর্বলতা হলো, এগুলো তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে এবং অনেক নিচ দিয়ে ওড়ে। ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষে খুব সহজেই এগুলোকে শনাক্ত করে ভূপাতিত করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে এই ড্রোনগুলোর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। মূলত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত নৌ-অবরোধ কার্যকর ও নিশ্ছিদ্র রাখতেই এগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত ড্রোন ধ্বংসের কারণে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা যেসব অস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, তার মধ্যে এমকিউ-৯ ড্রোন অন্যতম।
অত্যন্ত দামি এই ড্রোনগুলো ইরানের হাতে সহজেই ধ্বংস হতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে পেন্টাগনকে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন এখন এই ব্যয়বহুল ড্রোনের পরিবর্তে তুলনামূলক কম মূল্যের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
ডিবিসি/পিআরএএন