আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে যোগ না দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ‘চমৎকার সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানানোয় এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই যৌথ মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বরাবরের মতো এর সিংহভাগ খরচ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। এছাড়া এ ধরনের মহড়া একটি অনভিপ্রেত ও শত্রুভাবাপন্ন বার্তা দেয়। তবে সোমবার থেকেই পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক মহড়া শুরু হতে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আর বাতিল করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগে পাশে থাকার আহ্বান জানালেও সিউল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরও সিউল জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যৌথ মহড়া চলবে। তবে এ বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ১১ দিনব্যাপী ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই যৌথ মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনাসদস্য অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।

 

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং এই সামরিক মহড়াকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিউলের জন্য এক মিশ্র বার্তা নিয়ে এসেছে। একদিকে এটি কিম জং উনের সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি করলেও, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশামতো সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা না পাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যান্য মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার সময় এই যৌথ মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়েও এর পরিধি সীমিত করা হয়েছিল।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন