সিএনএনের ফ্যাক্টচেক

ইরান যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার ট্রাম্পের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (৬ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে ইরান পরিস্থিতি এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একাধিক অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেছেন। সিএনএন-এর এক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে ওসামা বিন লাদেন, সামরিক অভিযান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০০০ সালে প্রকাশিত তার একটি বইয়ে তিনি ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার এক বছর আগেই তিনি বিন লাদেনকে শেষ করে দেওয়ার কথা লিখেছিলেন বলে দাবি করেন। তবে প্রকৃত সত্য হলো, ওই বইতে বিন লাদেনকে নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছিল না এবং সেখানে তার নাম মাত্র একবার উল্লেখ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে বিন লাদেন নিহত হন, যা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক বছর আগের ঘটনা।

 

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতের ভুল গুলিতে তিনটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো মার্কিন বিমান ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়নি। অথচ ওই সংবাদ সম্মেলনেই জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন নিশ্চিত করেন, গত সপ্তাহে ইরানের গুলিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং উদ্ধার অভিযান চলাকালে একটি এ-১০ থান্ডারবল্ট-২ বিমান ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে ইরানি হামলায় একটি মার্কিন ই-৩ সেনট্রি বিমান ধ্বংস হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

 

ট্রাম্পের আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবিটিও পর্যালোচনায় ধোপে টেকেনি। তিনি যেসব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে মিসর-ইথিওপিয়া এবং সার্বিয়া-কসোভো ইস্যুটি আদতে কোনো যুদ্ধই ছিল না। আবার রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর মধ্যকার যুদ্ধটি বাস্তবে এখনো শেষ হয়নি। একইভাবে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরো কর্তৃক হাজার হাজার কয়েদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর যে দাবি ট্রাম্প বারবার করে আসছেন, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সেখানে ৪৫ হাজার সেনা থাকার কথা বললেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৭২২ জন। ২০২৬ সালের শুরুতে অতিরিক্ত ২০ হাজার সেনা মোতায়েনের কোনো রেকর্ড নেই। এছাড়া কমলা হ্যারিস কখনো সীমান্ত পরিদর্শনে যাননি বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিস ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুইবার সীমান্ত সফর করেছেন এবং তার মূল দায়িত্ব ছিল অভিবাসন সমস্যার মূল কারণগুলো নিয়ে কাজ করা, সরাসরি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা নয়।

 

তথ্যসূত্র: সিএনএন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন