ইরান যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজলেও একের পর এক বিপরীতমুখী আন্তর্জাতিক বার্তার কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সময়সীমা পার হয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় নিজের দলের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
সম্প্রতি আকস্মিক এক ওয়াশিংটন সফরে হোয়াইট হাউসে উপস্থিত হন সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান। তিনি ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে বার্তা পৌঁছান যে, সৌদি আরব ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায়। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে রিয়াদ হুঁশিয়ার করে। তবে তার ঠিক আগের দিনই ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি ইরানের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা এবং তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।
এই দুই মেরুর কূটনৈতিক বার্তার মাঝে দাঁড়িয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন উল্টো কথা। তেহরান হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও বেশি অটল রূপ দেখাচ্ছে। বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ডেকেও কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি।
এদিকে নতুন করে বিভিন্ন ফ্রন্ট উন্মোচিত হওয়ায় সংঘাত থামার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৮ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রিপাবলিকান নেতারা।
সূত্র: সিএনএন