ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চীনের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন এক সময়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরান নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি না।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপায়েই এই যুদ্ধে জয়ী হবে।
ইরানের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন নিম্নমুখী। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এই অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মাধ্যম ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের বিষয়টি কতটুকু গুরুত্ব পাবে, সে ব্যাপারে ট্রাম্পের কথায় কিছুটা পরস্পরবিরোধী সংকেত পাওয়া গেছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার ঠিক আগে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ হবে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তিনি (শি জিনপিং) এ ক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা রাখছেন।” অথচ এর কয়েক মিনিট পরেই তিনি সুর বদলে বলেন, “আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনার আছে, তবে আমি বলব না যে ইরান তার মধ্যে অন্যতম। কারণ সত্যি বলতে, ইরান এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এফএইচআর