যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই সপ্তাহান্তে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘাতের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় ধরনের অবস্থানেই মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
গত রাতে ইসরায়েলের তেল আবিবে এক সমাবেশে মানুষ ইসরায়েলি পতাকা নেড়ে এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়। একটি পোস্টারে লেখা ছিল, "বিদেশি বোমা কাউকে মুক্ত করে না," অন্যদিকে আরেকটিতে লেখা ছিল, "যুদ্ধ-যন্ত্রকে আর রসদ নয়।"
উরি ওয়েল্টম্যান নামের একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান নেতারা "আমাদের জন্য একটি অন্তহীন যুদ্ধের বাস্তবতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; যদি গাজায় না হয় তবে ইরানে, আর ইরানে না হলে লেবাননে।"
গতকাল ফ্রান্সের প্যারিসেও বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা নেড়েছেন, এ সময় অনেককে হাত দিয়ে শান্তির চিহ্ন প্রদর্শন করতে দেখা যায়। হিভা মোহাম্মদ নামে এক বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, ইরানে বোমা হামলা একটি "খারাপ কাজ"। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের পরিবর্তন "ভেতর থেকেই আসা উচিত"।
তিনি বলেন, "কোনো বোমা বা যুদ্ধ এই সত্যকে বদলাতে পারে না যে, ইরানকে তাদের নিজস্ব জনগণ ও তাদের নিজস্ব প্রতিরোধের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে।"
শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা "ইরান থেকে হাত সরাও" লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং ইরানের পতাকা ওড়ান। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, "ট্রাম্পকে বিদায় নিতে হবে!"
শুক্রবার মিশিগানের ডিয়ারবর্নে জনগণ লেবাননের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে একজন নারী একটি ছোট ছেলের ছবিসহ পোস্টার ধরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, "ইসরায়েল এই শিশুটিকে খুন করেছে।"
এদিকে, গতকাল টেক্সাসের প্লানোতে মানুষ ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। সেখানে তারা ইরান বিপ্লবের আগের পতাকা, সেইসাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন।
শনিবার লেবাননের বৈরুতে জনগণ হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের পতাকা হাতে রাস্তায় নামেন। রয়টার্সের সাথে কথা বলা বিক্ষোভকারীরা মূলত ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ জাবের নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, "এই ভূখণ্ড যেখানে আমরা মরছি, যেখানে আমাদের ও আমাদের সন্তানদের মাথার ওপর বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে, যদি এই প্রতিরোধ না থাকত তবে কেউই আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত না। প্রতিরোধ না থাকলে কেউ কখনো আমাদের কাছে আসত না বা আমাদের সাথে আলোচনা করত না।"
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/কেএলডি