ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির রাজধানী তেহরানের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ইহুদি উপাসনালয় (সিনাগগ) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার রাতভর চালানো এই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
ইরানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দৈনিক শারঘ’ জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রাফি-নিয়া সিনাগগ’ মঙ্গলবার ভোরের হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের তথ্যমতে, মূলত সিনাগগের পাশের একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল, যার তীব্রতায় প্রাচীন উপাসনালয়টিও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মাঝে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং চারপাশে হিব্রু ভাষার পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হোমায়ুন সামেহ। তিনি বলেন, ইহুদি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে জায়নবাদী শাসকেরা এই সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করেনি। তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তোরাহ এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
হামলার ভয়াবহতা কেবল উপাসনালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। তেহরানের পূর্বে পারদিস শহরের একটি ভবনে হামলায় ছয়জন এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শাহরিয়ার শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আরও ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর অনেক ইহুদি ইরান ত্যাগ করলেও দেশটিতে এখনো কয়েক হাজার ইহুদি বসবাস করেন এবং ইরানের সংবিধানে এটি একটি স্বীকৃত সংখ্যালঘু ধর্ম। ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাফি-নিয়া সিনাগগটি মূলত খোরাসান প্রদেশ থেকে আসা ইহুদিদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনস্থল ছিল। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও চরম ও অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/টিবিএ